শনিবার প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ম্যাট ফ্লোকা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের দেওয়া সুনির্দিষ্ট সময়সীমা মেনেই ট্রাম্পের নামফলকটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনে নিজের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেওয়া একটি বড় প্রতীকী উদ্যোগ ধূলিসাৎ হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গত শুক্রবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে এই নামফলক সরানোর শেষ সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। তবে তীব্র বজ্রঝড়ের কারণে কাজ ব্যাহত হওয়ায় কেনেডি সেন্টার কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেন। শনিবার খুব ভোরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ক্যামেরায় দেখা যায়, শ্রমিকরা ভবনের বাইরের দেয়াল থেকে ট্রাম্পের নামের অক্ষরগুলো একে একে কেটে নামাচ্ছেন। অবশ্য পুরো প্রক্রিয়াটি আড়াল করতে শুক্রবার থেকেই ওই অংশে একটি বড় টার্পুলিন বা ত্রিপলের পর্দা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে ট্রাম্পের নাম বহাল রাখতে শেষ মুহূর্তের আইনি লড়াইয়ে নেমেছিল কেনেডি সেন্টার কর্তৃপক্ষ ও মার্কিন বিচার বিভাগ। আপিল আদালতে তারা যুক্তি দেখায় যে, তড়িঘড়ি করে নাম পরিবর্তন করলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে নাম সরিয়ে নিলে কয়েক শ মিলিয়ন ডলারের বেসরকারি অনুদান হাতছাড়া হওয়ার এবং চুক্তি অনুযায়ী সেই অর্থদাতাদের ফেরত দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে বলেও জানানো হয়। তবে সমস্ত যুক্তি খারিজ করে দিয়ে শুক্রবার আপিল আদালত নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রাখেন। আইনি লড়াই চলমান থাকলেও আপাতত এই নির্দেশ মেনে নাম সরাতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে কেনেডি সেন্টারের পুরোনো বোর্ড ভেঙে নিজের অনুগতদের নিয়োগ দেওয়ার পর গত ডিসেম্বরে বোর্ড সদস্যরা প্রতিষ্ঠানটির নামের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। তখন থেকেই কেনেডি পরিবার এবং বিরোধী ডেমোক্র্যাট শিবিরের তীব্র আপত্তির মুখে পড়ে এই নাম পরিবর্তন।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেওয়া ওহাইওর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জয়েস বিটি শনিবার এই বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, নামফলক সরানোর সময় ক্ষুব্ধ ও কৌতূহলী সাধারণ মানুষের ভিড় জমে কেনেডি সেন্টারের সামনে। ট্রাম্পের নাম নেমে যেতে দেখে অনেককে উল্লাস প্রকাশ করতে এবং দায়িত্বরত কর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে দেখা যায়। ঠিক এই রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই শনিবার সকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন গলফ খেলার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন, তখন তার মোটরশোভাযাত্রাটি কেনেডি সেন্টারের এই পরিবর্তিত ভবনের সামনে দিয়েই অতিক্রম করে।
সূত্র: সিএনএন
ডেস্ক রিপোর্ট