গ্রিসের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বুধবার ২৯ জুলাই ক্রিটের ক্রিয়া ভ্রিসি গ্রামের কাছে আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় দুই দমকলকর্মী আগুনে আটকা পড়ে প্রাণ হারান। একই দিনে পেলোপনিস অঞ্চলের আরেকটি দাবানলে আরও একজন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়।
প্রবল বাতাসে আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করায় ক্রিয়া ভ্রিসি এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। আগুন দক্ষিণ পূর্ব দিকে উপকূলীয় শহর আগিয়া গালিনির দিকে অগ্রসর হলে সেখানকার হোটেলগুলো থেকেও পর্যটকদের সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে স্পেন ও ফ্রান্সেও কয়েক দিন ধরে দাবানল অব্যাহত রয়েছে। এতে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল পুড়ে গেছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্পেনের আভিলা ও মাদ্রিদ অঞ্চলের একটি বড় দাবানল আংশিক নিয়ন্ত্রণে এলেও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের জামোরা প্রদেশে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ছয়টি শহরের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার দেশটির অন্তত ছয়টি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ফ্রান্সের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের কারণে সেখানে আগুন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফ্রান্সের লাঁদ অঞ্চলে দাবানলে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। ঝুঁকির মুখে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
স্পেনের কাস্তেলন প্রদেশে পঞ্চম দিনেও দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সেখানে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষ এখনও নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেননি।
দাবানলের কারণে শুধু বনভূমিই নয়, বন্যপ্রাণীরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্পেনের আভিলা প্রদেশের এল তিয়েমব্লো এলাকায় আগুনে পুড়ে যাওয়া বনাঞ্চলে হরিণের মৃতদেহ দেখা গেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি সাড়া কেন্দ্রের প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে গ্রিস ও ইতালিতে দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরা ইউরোপজুড়ে দাবানলের বিস্তারকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
ডেস্ক রিপোর্ট