সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানায়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তাঁরা অবসর সংক্রান্ত সব সুবিধা ভোগ করবেন।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন রাজশাহীর তৎকালীন ডিসি এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবীর মুরাদ, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, শেরপুরের আনার কলি মাহবুব, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাস, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর মো. ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. সাহেদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙ্গামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, নওগাঁর মো. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নূরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মো. দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার মো. আবুল ফজল মীর এবং চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক সংস্কার এবং ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশি বিদেশি মহলে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি, অনিয়ম, বিরোধী প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর দমন পীড়ন এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮টি আসনে জয়লাভ করে। এরপর থেকে নির্বাচনটির গ্রহণযোগ্যতা এবং রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট