গত ২৭ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনে ‘বেড়িবাঁধে সুড়ঙ্গ করে ড্রেজারের পাইপ, ঝুঁকিতে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরদিনই উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেচ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে বাঁধের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত অবৈধ পাইপগুলো অপসারণ করে এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ জব্দ করে।
অভিযান চলাকালে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সালাউদ্দিন বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় বাঁধের জন্য ক্ষতিকর অবৈধ পাইপগুলো অপসারণ করা হয়েছে। প্রকল্প ও বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। প্রকল্পটি সুরক্ষিত রাখতেই অবৈধভাবে স্থাপন করা ক্ষতিকর পাইপ অপসারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ একই ধরনের কাজ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযান দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, বাঁধের পাকা সড়ক ফুটো করে ড্রেজারের পাইপ বসানো প্রকল্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সাহস পাবে না।
স্থানীয়দের কেউ কেউ আরও বলেন, মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের কার্যালয় বর্তমানে প্রকল্প এলাকা থেকে অনেক দূরে জেলা সদরে অবস্থিত। কার্যালয়টি প্রকল্প এলাকার কাছাকাছি হলে নিয়মিত তদারকি ও পর্যবেক্ষণ আরও সহজ হতো।
অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমতউল্লাহ, মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান, মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সালাউদ্দিন, শাখা ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধে অবৈধ পাইপ স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব নির্ধারণে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। তবে সাম্প্রতিক অভিযানে উপজেলা প্রশাসন ও সেচ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ অংশ নিলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোনো প্রতিনিধিকে সেখানে দেখা যায়নি।
ডেস্ক রিপোর্ট