মন্ত্রিসভায় জাতীয় পে স্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো গেজেট প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং, জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কিছু সুবিধা নিয়ে পর্যালোচনা এবং বেতন ও পেনশন হিসাবের সফটওয়্যার আইবিএএস++ পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ না হওয়ায় গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ গেজেট প্রকাশের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় পে স্কেল ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬ অনুমোদিত হয়। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন পে স্কেল গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বর্ধিত মূল বেতন একসঙ্গে কার্যকর হবে না। সরকার এটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা নতুন হারে পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
নতুন কাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং প্রায় সোয়া ৯ লাখ পেনশনভোগী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী আসবেন। পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় নতুন গ্রেডভিত্তিক মূল বেতনের অঙ্ক অনুমোদিত হলেও চাকরিরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বর্তমান মূল বেতন নতুন কাঠামোর কোন ধাপে নির্ধারিত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশেষ করে কোনো কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন সংশ্লিষ্ট গ্রেডের নতুন প্রারম্ভিক বেতনের চেয়ে বেশি হলে তার বেতন কীভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হবে, সেটিও গেজেটে বিস্তারিত জানানো হবে। একই সঙ্গে ইনক্রিমেন্ট, চাকরির মেয়াদ ও বিদ্যমান আর্থিক সুবিধা সমন্বয়ের বিষয়েও নির্দেশনা প্রয়োজন। একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগের মতো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নয়, বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় বেতন হিসাব করা হয়। ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেলের পর প্রযুক্তিগত হিসাবব্যবস্থা চালু হওয়ায় এবারও নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সফটওয়্যার প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গেজেট প্রকাশের আগে জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কিছু দাবি ও সুবিধা নিয়েও পর্যালোচনা চলছে। শতভাগ ভাতাসহ কয়েকটি সুবিধার প্রস্তাব যাচাই করা হচ্ছে। জাতীয় পে স্কেলের সঙ্গে জুডিশিয়াল সার্ভিসের পৃথক বেতন কাঠামোর কোনো অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে কি না, তাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। নতুন পে স্কেল কার্যকর করতে আইবিএএস++ ব্যবস্থায় নতুন বেতন ম্যাট্রিক্স যুক্ত করতে হবে। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বর্তমান মূল বেতন, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট ও চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে নতুন বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিও সফটওয়্যারে সংযুক্ত করতে হবে।
পাশাপাশি ১ জুলাই থেকে গেজেট কার্যকর হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের বকেয়া বা অ্যারিয়ার হিসাবের ব্যবস্থাও করতে হবে। বিপুলসংখ্যক কর্মচারীর তথ্য একসঙ্গে প্রক্রিয়াকরণের আগে তথ্য যাচাই ও সফটওয়্যার পরীক্ষা প্রয়োজন। নতুন পে স্কেল নিয়ে পেনশনভোগীদের মধ্যেও আগ্রহ রয়েছে। পুরোনো ও নতুন পেনশনভোগীদের সুবিধা কীভাবে সমন্বয় হবে এবং নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার আগে ও পরে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা গেজেটের বিস্তারিত নির্দেশনায় স্পষ্ট হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, গেজেট প্রকাশে বিলম্বকে পে স্কেল আটকে যাওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই। আইনগত যাচাই, সুবিধাগুলোর সমন্বয় এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি শেষ করেই প্রজ্ঞাপন জারি করতে চায় সরকার। ফলে নতুন বেতন কাঠামোয় কে কত টাকা পাবেন, কোন তারিখ থেকে পাবেন এবং বকেয়া কীভাবে হিসাব হবে, তার চূড়ান্ত নির্দেশনা গেজেটেই পাওয়া যাবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
পে স্কেলের গেজেট কেন দেরি, জানা গেল তিনটি কারণ
আইনগত যাচাই, জুডিশিয়ারির সুবিধা ও আইবিএএস++ প্রস্তুতির কাজ চলছে
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৩-০৯-২০২৬ ০৯:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৩-০৯-২০২৬ ১০:২৬:২২ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ২১ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর