চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে সরকার।
এর মধ্যে গত মার্চ মাসে রাজস্ব আদায়ে চলতি অর্থবছরের সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধির দেখা মিলেছে।
মঙ্গলবার এনবিআরের প্রকাশ করা হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা ছিল।
ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে, ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৯৮ হাজার কোটি টাকা।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো সময়ে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা।
ওই অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা; আর এনবিআর আদায় করে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা।
এদিকে মার্চ মাসে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর আগে জানুয়ারিতে ৩ দশমিক ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।
পরের মাসে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে খানিকটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিললেও তা টেকসই হয়নি।
চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১১ শতাংশ।
এর আগের অর্থবছরের শুরুতে কোটা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান আর ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যে দেশের অর্থনীতি একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছিল। তাতে ওই সময় রাজস্ব আদায়েও ভাটা দেখা যায়।
ওই সময় রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধির দেখা মেলে।
একক মাস হিসেবে জুলাইয়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয় ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ; অগাস্টে ১৮ দশমিক ০৩ শতাংশ আর সেপ্টেম্বরে তা দাঁড়ায় ২০ দশমিক ১৫ শতাংশে।
সব মিলিয়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আদায় বাড়ে ২০ দশমিক ৮০ শতাংশ।
এরপরেই ধাক্কা আসে, অক্টোবর মাসে প্রবৃদ্ধি হয় কেবল ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। তারপর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি থাকলেও শেষ ধাক্কা এসে লাগে জানুয়ারি মাসে। তা থেকে ফেব্রুয়ারিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও মাসটিতে এক অঙ্কের ঘরেই ছিল প্রবৃদ্ধি।
এবার মার্চ মাসের ধাক্কা সব মাসকেই ছাড়িয়ে গেল।
একক মাস হিসেবে নভেম্বরে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ আর ডিসেম্বরে ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
অবশ্য অর্থবছরের শেষ দিকে সাধারণত রাজস্ব আয় বাড়তে দেখা যায়।
চলতি অর্থবছরে সরকার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এনবিআরের মাধ্যমে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা আহরণ করতে চায়। বাজেটে যা ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটে তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা এনবিআর ও সব উৎস থেকে মোট ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন, যা জিডিপির ৯ শতাংশ। এর মধ্যে অন্যান্য উৎস থেকে ৬৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
রাজস্ব আদায়ে বড় ধাক্কা: ৯ মাসে ঘাটতি রেকর্ড ৯৮ হাজার কোটি টাকা
- আপলোড সময় : ২২-০৪-২০২৬ ১২:২৮:১৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-০৪-২০২৬ ১২:২৮:১৫ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট