ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেকে’ দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা পরিস্থিতি সরজমিন পর্যবেক্ষণ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত হওয়ার পর এই প্রথম বাংলাদেশ সীমান্তে এসে এমন হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা পর্যালোচনা করলেন তিনি।
শনিবারের এই হাই-ভোল্টেজ সফরে অমিত শাহের ঠিক পাশেই দেখা গেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তাকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের জুমাইগাছ আউটপোস্টে দাঁড়িয়ে সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) আধুনিকায়ন ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সীমান্তকে পুরোপুরি নিচ্ছিদ্র ও দুর্ভেদ্য করার লক্ষ্যে এই সফরে অমিত শাহ ভার্চুয়ালি ৪৭ কোটি রুপি ব্যয়ে বিএসএফের তিনটি নতুন অবকাঠামো প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গের দুটি সীমান্ত আউটপোস্টের জন্য সদ্য অধিগৃহীত বিতর্কিত জমিতে ৩০ কোটি রুপি ব্যয়ে আরও ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বেড়া নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করেন তিনি।
অমিত শাহের এই সফরে মূলত তিনটি দেশীয় ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রকল্পের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় কেউ স্পর্শ করলে বা কাটার চেষ্টা করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাক-রেকর্ড করা সতর্কবার্তা বেজে উঠবে, যা বিএসএফ জওয়ানদের তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে যেতে সাহায্য করবে। পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ১৮০ কিলোমিটার এলাকা নদীমাতৃক ও দুর্গম, যেখানে প্রথাগত বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়। এই নদী অঞ্চলগুলোতে অদৃশ্য ইনফ্রারেড রশ্মির মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করার প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। তৃতীয়ত জিরো লাইনের কাছাকাছি বসবাসকারী বেসামরিক নাগরিক এবং ভারতীয় কৃষকদের যাতায়াত কঠোরভাবে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ করতে এই বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
শুভেন্দুকে পাশে নিয়ে ‘চিকেন নেকে’ কড়া বার্তা:
নেপাল ও বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এবং ভুটান ও চীন সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি অবস্থিত এই শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর সংযোগ রক্ষাকারী একমাত্র সংকীর্ণ পথ।
সেখানে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বিগত তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “যে শিলিগুড়ি করিডোর আগের সরকারগুলোর আমলে অনুপ্রবেশের অবাধ প্রবেশদ্বার হয়ে উঠেছিল, মোদী সরকারের দূরদর্শিতায় আজ তা সুরক্ষিত সীমান্তের প্রতীক। আমরা ওয়াচটাওয়ারের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সীমান্তকে সম্পূর্ণ অভেদ্য করে তুলছি।”
সফরে শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও অমিত শাহের সাথে ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিবহন রাষ্ট্রমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন এবং বিএসএফের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
বিএসএফ জওয়ানদের সাথে মতবিনিময় ও সীমান্ত পরিদর্শনের পর অমিত শাহ জলপাইগুড়ির প্রশাসনিক ভবন 'উত্তরকন্যা'-তে তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিগত বৈঠকে অংশ নেন। বিএসএফ সূত্রের খবর, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে মাদক মুক্ত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে তৈরি হওয়া ‘জনমিতিক পরিবর্তন’ বা জনসংখ্যাগত ভারসাম্যের বদল নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
অনুপ্রবেশের কারণে সীমান্তের এই জনমিতিক পরিবর্তন খতিয়ে দেখে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করার জন্য প্রশাসন ও বিএসএফকে নির্দেশ দিয়েছেন শাহ। এছাড়া উত্তরকন্যার বৈঠকে রাজ্যের নতুন ফৌজদারি আইন এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালার নতুন সংশোধনী নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
সীমান্ত সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি ও কড়া নজরদারি: শিলিগুড়িতে অমিত শাহ
চিকেনস নেক করিডোর পরিদর্শনে অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারী: সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা বলয়
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২০-০৭-২০২৬ ০২:১৫:১৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২০-০৭-২০২৬ ০২:১৫:১৯ পূর্বাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১,১৫২ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
মন্তব্য (1)
Aungshuman Roy
— 20 Jul 2026, 07:48 PM
Well step taken by Indian Government. Zero tolerance regarding illegal immigrants & violence should be adopted, no compromise. 🤔🤔
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর
ডেস্ক রিপোর্ট