বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া, তারাপুর ও হরিপুর পয়েন্টে পানি গতকাল বিপৎসীমায় প্রবাহিত হয়। এর ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি আত্রাই নদীর নওগাঁ এবং ছোট যমুনা নদীর নওগাঁ পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় ছিল।
উত্তর পূর্বাঞ্চলের সিলেটেও বন্যা পরিস্থিতির প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩৪ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধারণা, এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল থাকতে পারে। এছাড়া চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের উপকূলীয় নদীগুলোয় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি জোয়ারের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটির কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো শেষ হয়নি। চট্টগ্রামের তিনটি উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় আট লাখ মানুষ নিরাপদ পানির সংকটে রয়েছেন।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, উজানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির কারণে তিস্তা অববাহিকার কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বেড়েছে। এর প্রভাবে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে পুনরায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরের ডিমলায় সর্বোচ্চ ১৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট