বরিশালে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। তিনি জানান, এখনো হরতাল বা অবরোধের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি, তবে প্রয়োজন হলে যে কোনো সময় এমন কর্মসূচি দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
শনিবার ১৮ জুলাই বিকেলে বরিশাল নগরীর ভাটারখাল এলাকায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কঠোর রাজনৈতিক কর্মসূচির পক্ষে তারা শুরুতে ছিলেন না। তবে সরকারের অবস্থান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে সেই দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, সরকার গণভোটের আগে জুলাই সনদের পক্ষে প্রচারণা চালালেও জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দেওয়ার পরও তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। একই সঙ্গে সরকার প্রকাশ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার বা তাদের সঙ্গে প্রতারণা করার সুযোগ কোনো সরকারের নেই। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, দলটি দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের কথা বললেও ৫ আগস্টের পর তাদের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে। তার অভিযোগ, বিএনপির মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষমতায় যাওয়া, গণতান্ত্রিক সংস্কার নয়।
সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের পর বিএনপি আর সংস্কার, ৩১ দফা বা সংবিধান সংস্কার কমিশনের বিষয়ে আগের অবস্থানে নেই। অথচ তাদের ঘোষিত ৩১ দফার প্রথম দফাতেই সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে প্রহসন করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। প্রয়োজন হলে নতুন সংবিধান এবং নতুন গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিও তোলা হবে। ঐকমত্য কমিশনে গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে যে ঐকমত্য হয়েছিল, সেটিও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
বরিশালের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক মানুষ ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জীবিকার সন্ধানে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ঘোষিত কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি এবং সাধারণ মানুষের জন্য নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়নি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ, সীমান্ত নিরাপত্তা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দমন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। সেই লক্ষ্য পূরণে সবাইকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য দেন। এর আগে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নিতে কেন্দ্রীয় ঈদগাহে উপস্থিত হন।
ডেস্ক রিপোর্ট