আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়মিত হাঁটার নানা স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কথা বললেও ইসলাম বহু আগেই মসজিদের দিকে হাঁটার বিশেষ ফজিলতের কথা তুলে ধরেছে। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ওজু করে মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে বান্দার গুনাহ ক্ষমা করা হয় এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে ফজর ও এশার নামাজের জন্য ঘরের আরাম ত্যাগ করে মসজিদে যাওয়া ঈমানের দৃঢ়তার পরিচায়ক।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করে, যারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে, জাকাত আদায় করে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না। সুরা আত তওবার ১৮ নম্বর আয়াতে এ নির্দেশনা এসেছে। এছাড়া সুরা আল জিনের ১৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য নির্ধারিত, তাই তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে আহ্বান করা যাবে না।
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কষ্টের সময়ও সুন্দরভাবে ওজু করা, মসজিদের দিকে বেশি বেশি হাঁটা এবং এক সালাতের পর আরেক সালাতের অপেক্ষায় থাকা এমন আমল, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা গুনাহ মাফ করেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। সহিহ মুসলিমের ২৫১ নম্বর হাদিসে এ বর্ণনা রয়েছে।
আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘরে ওজু করে ফরজ সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে আল্লাহর ঘরের দিকে যায়, তার প্রতিটি দুই পদক্ষেপের একটির মাধ্যমে একটি গুনাহ মুছে দেওয়া হয় এবং অন্যটির মাধ্যমে একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। এ হাদিসটি সহিহ মুসলিমের ৬৬৬ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
নিয়মিত হাঁটা যেমন হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, স্থূলতা ও মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে, তেমনি মসজিদের পথে হাঁটার অভ্যাস একজন মুসলিমকে সময়ানুবর্তী, ইবাদতমুখী এবং আল্লাহর স্মরণে সচেতন রাখে। তাই সুযোগ থাকলে বিশেষ করে ফজর, মাগরিব ও এশার সালাতে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার প্রতি ইসলাম উৎসাহ দিয়েছে। একজন মুমিনের জন্য এটি দুনিয়ার উপকারের পাশাপাশি আখিরাতের সফলতারও গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।
ডেস্ক রিপোর্ট