ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৪ সফর ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১,০১৩ ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো, সুনামি সতর্কতা কলকাতা বিমানবন্দরে নামাজ নিয়ে উত্তেজনা: ১৪৪ ধারা জারি কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট খোলার প্রস্তুতি: শনিবার শুরু হতে পারে পানি নিষ্কাশন জার্মান নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করলেন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎস ‘ফ্যাসিবাদী সরকার অর্থনীতি ধ্বংস করে গেছে’: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তালাকের অজুহাতে ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না: হাইকোর্ট বোয়ালখালীতে লবণ কারখানায় বিস্ফোরণ: দগ্ধ ৫ জন আইসিইউতে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ: ৩ প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএফএসএ-র মিয়ানমার উপকূলে ভয়াবহ নৌকাডুবি: ৫৩০ রোহিঙ্গার সলিল সমাধি বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: ৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত কঠোর আন্দোলনের মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা শুরু: বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ বুধবার পরীক্ষা স্থগিত না হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে ‘লংমার্চ’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা আগের সিদ্ধান্তে অটল সরকার, চট্টগ্রাম ছাড়া দেশজুড়ে এইচএসসি পরীক্ষা চলবে: পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা ১০ ঘণ্টা পর রাজপথ ছাড়ল শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত বিতর্কিত মন্তব্যে দুঃখ প্রকাশ শিক্ষামন্ত্রীর: সংসদে বড় ঘোষণা ও সংসদ ভবনে উত্তেজনা সংসদ ভবনের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী: এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের গেট খুলে মাথায় নিলেন পরীক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি
বাংলাদেশ-চীনের যৌথ অর্থায়নে নির্মাণাধীন প্রকল্পে চলছে পাইপলাইন, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও বুস্টার স্টেশনের কাজ; ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর আশা

চীন-বাংলাদেশ যৌথ প্রকল্পে বদলাচ্ছে রাজশাহীর পানি ব্যবস্থা

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ১৮-০৭-২০২৬ ১২:১৮:১৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-০৭-২০২৬ ১২:১৮:১৮ পূর্বাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৯ বার পঠিত
চীন-বাংলাদেশ যৌথ প্রকল্পে বদলাচ্ছে রাজশাহীর পানি ব্যবস্থা ছবি: সংগ্রহীত
রাজশাহীর সুপেয় পানির দীর্ঘদিনের সংকট দূর করতে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রায় ৪ হাজার ৬২ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পের প্রায় ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজশাহী ওয়াসা। সংশ্লিষ্টদের আশা, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে গোদাগাড়ীর পদ্মা নদীর পানি শোধন করে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি রাজশাহী মহানগরে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
 
রাজশাহীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও নগরায়ণের সঙ্গে সুপেয় পানির চাহিদাও বেড়েছে। বর্তমানে নগরীতে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানির ঘাটতি রয়েছে এবং সেই চাহিদা পূরণে মূলত ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ২০১৮ সালে একনেক সভায় ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার প্রকল্প অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে গোদাগাড়ী উপজেলার জোত-গোসাইদাস এলাকায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হয়।
 
প্রকল্পটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পদ্মা ও মহানন্দা নদীর মোহনায় নির্মাণ করা হচ্ছে ইনটেক পয়েন্ট, যেখানে থেকে পানি সংগ্রহ করা হবে। এর পাশে নির্মিত হচ্ছে দৈনিক ২০ কোটি লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন মূল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। পাশাপাশি পবা উপজেলার হরিপুর এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে বুস্টার প্ল্যান্ট, যেখান থেকে পরিশোধিত পানি শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন পাইপলাইন স্থাপনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।
 
রাজশাহী ওয়াসার সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহিম জানান, প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন শ্রমিক কাজ করছেন এবং সার্বিক অগ্রগতি প্রায় ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে প্রধান প্রকৌশলী মো. পারভেজ মামুদ বলেন, ২০৩৫ সালের সম্ভাব্য পানির চাহিদা বিবেচনায় রেখে প্ল্যান্টের সক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, ২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রধান পাইপলাইনের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২১ কিলোমিটার স্থাপন করা হয়েছে।
 
ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজশাহী মহানগরে প্রতিদিন প্রায় ১১ কোটি ৩২ লাখ লিটার পানির চাহিদা রয়েছে। এর বেশির ভাগই ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়। নতুন প্রকল্প চালু হলে এই নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং শহরের পানির ঘাটতি দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, পদ্মা নদীর ইনটেক এলাকায় সারা বছর অন্তত ৩০ ফুট গভীরতায় পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
 
রুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল ওয়াকিল বলেন, বারিন্দ অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধারাবাহিকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই পদ্মার পানি শোধন করে সরবরাহের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি নগরীর পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
 
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চীনের হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড। মোট ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ১ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা এবং চীনা অংশীদার প্রতিষ্ঠান প্রায় ২ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণসামগ্রী, আধুনিক পানি শোধন প্রযুক্তি এবং উন্নতমানের পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও টেকসই পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
 
প্রকল্প এলাকায় স্থানীয় শ্রমিক, প্রযুক্তিবিদ, পরিবহন খাত ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণের ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের আশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে রাজশাহীর নাগরিকরা নিরাপদ ও পর্যাপ্ত সুপেয় পানির সুবিধা পাবেন এবং ভবিষ্যতের পানির চাহিদা মোকাবিলায় শহরটি আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৫

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।