শিশুর মধ্যে হাম রোগের লক্ষণ দেখা দিলে বিলম্ব না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখের সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া হাম রোগের প্রধান লক্ষণ। অনেক সময় অভিভাবকরা এসব উপসর্গকে সাধারণ ভাইরাসজনিত অসুস্থতা মনে করে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। ফলে রোগের অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
হাম আক্রান্ত শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় তরল খাবার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধুমাত্র ঘরোয়া পরিচর্যার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। কারণ রোগের তীব্রতা ও শিশুর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম, তাদের ক্ষেত্রে হাম থেকে জটিলতা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই এ ধরনের শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন।
হাম প্রতিরোধের প্রয়োজন হলো সময়মতো টিকা গ্রহণ। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নির্ধারিত বয়সে হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়া হয়। নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে হামের প্রকোপ এবং এর জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
হাম আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে কিছুটা আলাদা রাখা উচিত, যাতে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে। পাশাপাশি শিশুর জ্বর, শ্বাসকষ্ট, খেতে না পারা বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।
হামকে সাধারণ রোগ মনে করে অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে অধিকাংশ শিশুই সুস্থ হয়ে ওঠে। তাই শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের নিকট যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট