হাই প্রেশারের ওষুধ নিয়মিত না খেলে বাড়তে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকি
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন নিয়মিত ওষুধ সেবন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
- আপলোড সময় : ২১-০৭-২০২৬ ০৩:৪১:০০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-০৭-২০২৬ ০৪:৪৬:১২ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৩৩ বার পঠিত
প্রতীকী ছবি : সংগৃহীত
উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেশারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক রোগী রক্তচাপ স্বাভাবিক মনে হলে বা কোনো উপসর্গ না থাকলে নিজ সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করে দেন। তবে এ ধরনের অভ্যাস হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি বছরের পর বছর শরীরে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই অবস্থান করে। এ কারণে একে নীরব ঘাতক বলা যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, উপসর্গ না থাকলেও উচ্চ রক্তচাপ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওষুধ গ্রহণের ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে এলেও রোগ সম্পূর্ণ সেরে গেছে এমনটি মনে করার সুযোগ নেই। বরং ওষুধ বন্ধ করে দিলে রক্তচাপ আবার বেড়ে যেতে পারে এবং রোগী হঠাৎ করেই গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারেন।
দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া এবং রক্তনালির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবনের পাশাপাশি নির্ধারিত সময় পরপর রক্তচাপ পরীক্ষা করাও প্রয়োজন।
শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করলেই হবে না। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা, অতিরিক্ত লবণ পরিহার করা, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য থেকে দূরে থাকা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও কার্যকরী ।
কেউ কেউ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় বা কিছুদিন ভালো অনুভব করার পর ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিতে পারেন। চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কখনোই নিজে থেকে নেওয়া উচিত নয়। কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ওষুধের ধরন বা মাত্রা পরিবর্তন করতে পারেন।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোগীর সচেতনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ওষুধ সেবন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই হাই প্রেশারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা অবহেলা না করে নিয়মিত ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।