ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি, বাড়তে পারে আমদানি ব্যয়
বাজারে চাহিদা বৃদ্ধিতে চাপ, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের
- আপলোড সময় : ২১-০৭-২০২৬ ১০:৫৭:৩৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২১-০৭-২০২৬ ১০:৫৭:৩৯ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৫১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
দেশে আবারও ডলারের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব আমদানি ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে আমদানি খাতে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সায়, আর খোলাবাজার ও ব্যাংকের নগদ লেনদেনে এর দাম ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে রয়েছে।
জুলাই মাসের শুরু থেকেই ডলারের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছিল। আন্তঃব্যাংক লেনদেনের তথ্যে দেখা যায়, মাসের প্রথম দিকে প্রতিদিন ১৩ থেকে ১৫ পয়সা করে দাম বাড়লেও শেষ সপ্তাহে একদিনে প্রায় ৫০ পয়সা পর্যন্ত বেড়ে যায়। এর প্রভাব ব্যাংকগুলোর বিক্রয়মূল্যেও পড়েছে।
গত এক সপ্তাহে আমদানি খাতে প্রতি ডলারের দাম ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছেছে। একই সময়ে খোলাবাজার ও নগদ লেনদেনেও ডলারের দর ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রফতানি আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লেও আমদানি কার্যক্রম বেড়েছে, ফলে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতেই ডলারের বিনিময় হার নির্ধারিত হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি এতে হস্তক্ষেপ করে না। তবে কোনো ধরনের কারসাজির অভিযোগ এলে তা তদন্ত করা হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটও ডলারের দামে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এর ফলে উচ্চমূল্যে ডলার কিনে আমদানি করতে হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যপণ্য থেকে যন্ত্রপাতি পর্যন্ত অধিকাংশ পণ্য আমদানিনির্ভর হওয়ায় ডলারের দাম বাড়লে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। সামান্য মূল্যবৃদ্ধিও বড় অঙ্কের লেনদেনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে এবং এটি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ডলারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হবে এবং তা বাজার ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সে দিকেই নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।