নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় 'খুন করলে জেলে যাওয়া যাবে' — এই বিকৃত কৌতূহল থেকে ১১ বছরের শিশু হোসাইনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত ছয় কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৭ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২৪ এপ্রিল ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা এসে লাশ শনাক্ত করেন। নিহত হোসাইন বাবার সঙ্গে শহরে ফুল বিক্রি করত এবং ১৮ এপ্রিল সকাল থেকে নিখোঁজ ছিল। তদন্তে জানা যায়, ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা দেওয়া ও মাদক সেবনকারী কিশোররা তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করে।
জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে খুন করে জেলে যাওয়ার 'অভিজ্ঞতা' নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগেই পরিত্যক্ত বাড়িতে ছুরি-চাকু লুকিয়ে রাখা হয়। পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হোসাইনকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে ওই স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় থাকা রাহাত, হোসাইন ও ওমরসহ সবাই মিলে ছুরিকাঘাতে শিশুটিকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ প্রথমে ইয়াসিনকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ছয়জনের মধ্যে চারজন মামলার এজাহারভুক্ত, বাকি দুজনকে তদন্তে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রধান আসামি ইয়াসিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একজন অপরাধী এখনো পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্টাফ রিপোর্টার