সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজধানীতে চলাচলের সময় অধিকাংশ মন্ত্রী বিশেষ পুলিশ এসকর্ট সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী রয়েছেন। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বিশেষ এসকর্ট প্রত্যাহার হলেও প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী তারা আগের মতোই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান, বাসভবনে হাউজ গার্ড এবং ঢাকার বাইরে সরকারি সফরে প্রয়োজনীয় পুলিশি নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিআইপি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে পুলিশ সদর দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলমান পুলিশ সদস্য ও যানবাহনের সংকটও এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
একজন মন্ত্রীর বিশেষ এসকর্ট দলে সাধারণত একজন উপপরিদর্শক এবং চারজন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করেন। এ দলের জন্য একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যান বরাদ্দ থাকে। সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বেতন ভাতা এবং যানবাহনের জ্বালানি ব্যয় সরকারি অর্থ থেকেই বহন করা হয়।
বর্তমানে যেসব মন্ত্রী বিশেষ পুলিশ এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছেন তারা হলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে বর্তমানে ৪৯ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১ হাজার ৬৯১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। প্রয়োজন রয়েছে ২ হাজার ৫৭৫ জন সদস্যের। ফলে প্রায় ৯০০ জন সদস্যের ঘাটতি থাকায় দায়িত্বে থাকা সদস্যদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে, যা তাদের ওপর বাড়তি শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জনবল সংকটের পাশাপাশি যানবাহনের স্বল্পতাও নিরাপত্তা কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনায় হামলায় প্রোটেকশন ইউনিটের একাধিক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে বর্তমানে সীমিত যানবাহন ব্যবহার করে একাধিক ভিআইপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে, যা দায়িত্ব পালনে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ডেস্ক রিপোর্ট