নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের এমডি কারাগারে
নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ০২:১৯:০৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ০২:১৯:০৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৩৯ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালী সদর উপজেলাধীন দত্তেরহাট বাজারে অবস্থিত নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো. মোসলিম নামে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবুল হোসেনকে গ্রেফতার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। পরে সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ভুল চিকিৎসায় মৃত মো. মোসলিম (১২) লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। গত শনিবার বিকেলে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলার সময় অন্য এক শিশুর আঘাতে তার চোখে রক্ত জমে ফুলে যায়। পরে স্বজনরা তাকে নোয়াখালী শহরের দত্তেরহাটের নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্বজনদের অভিযোগ, সেখানে হাসপাতালের এমডি আবুল হোসেন শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে চোখে তিনটি ইনজেকশন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটির মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আবুল হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় নিহত শিশুর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্যারামেডিকস ও দত্তেরহাটের নোয়াখালী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি)আবুল হোসেন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শন করে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আবুল হোসেনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করা হলেও তারা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করায় তাকে আপাতত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে পরবর্তী সময় মামলা করতে পারবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।