আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি হিসেবে অন্তত ছয় মাস দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করলে অথবা মেয়াদ শেষ হলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ মাসিক বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে অবসর ভাতা পাবেন। দ্য প্রেসিডেন্টস রিমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস অ্যাক্ট, ১৯৭৫ এর ২০১৬ সাল পর্যন্ত সংশোধিত বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বর্তমান মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সে হিসাবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসর ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবেন।
আইনে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে অন্য কোনো চাকরি থেকে অবসর ভাতা গ্রহণ করলে তিনি রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা অথবা পূর্ববর্তী অবসর ভাতার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন। অবসর ভাতা গ্রহণকারী সাবেক রাষ্ট্রপতির মৃত্যু হলে তাঁর বিধবা স্ত্রী অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিপত্নীক স্বামী মূল অবসর ভাতার দুই তৃতীয়াংশ হারে আজীবন মাসিক ভাতা পাবেন।
অবসর ভাতার পরিবর্তে এককালীন আনুতোষিক গ্রহণের সুযোগও রয়েছে। এ জন্য অবসর ভাতার অধিকার অর্জনের এক মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। আনুতোষিকের পরিমাণ নির্ধারিত হবে একজন ব্যক্তি যত বছর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেই সময়ের ভিত্তিতে। এ ক্ষেত্রে আংশিক বছরও পূর্ণ বছর হিসেবে গণ্য হবে। কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতি আনুতোষিক বা অবসর ভাতা গ্রহণের আগেই মারা গেলে আইন অনুযায়ী তাঁকে আনুতোষিক গ্রহণে আগ্রহী হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সেই অর্থ তাঁর মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীরা পাবেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার পর একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্ট পাবেন। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত দাপ্তরিক ব্যয়, একজন মন্ত্রীর সমমানের চিকিৎসাসুবিধা, সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহার, আবাসস্থলে টেলিফোন সংযোগ ও নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বিল পরিশোধের সুবিধা পাবেন। এছাড়া কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের ভেতরে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুযোগও থাকবে। একই ধরনের চিকিৎসাসুবিধা, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে অবস্থানের সুবিধা তাঁর স্ত্রীও ভোগ করতে পারবেন।
তবে আইনে কিছু ক্ষেত্রে এসব সুবিধা বাতিলের বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়ার পর সংযুক্ত তহবিল থেকে বেতন বা অন্য সুবিধা পাওয়া যায় এমন কোনো পদে দায়িত্ব নিলে অবসর ভাতা ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হলে অথবা উচ্চ আদালত অসাংবিধানিক বা অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দিলে ওই ব্যক্তি এসব সুবিধার অধিকার হারাবেন।
ডেস্ক রিপোর্ট