লন্ডনে নিলামে দুই পেন্টহাউস, মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন
৩ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে কেনা সম্পত্তির সঙ্গে মোজতবা খামেনির যোগসূত্রের অভিযোগ
- আপলোড সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ০৯:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ০৯:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৮৩ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের লন্ডনের অভিজাত কেনসিংটন এলাকায় প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে কেনা দুটি বিলাসবহুল পেন্টহাউস নিলামে উঠছে। কাগজে-কলমে সম্পত্তি দুটির মালিক ইরানের প্রভাবশালী ব্যাংকার আলি আনসারি হলেও এগুলোর চূড়ান্ত সুবিধাভোগী হিসেবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নাম উঠে এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩এ প্যালেস গ্রিন ভবনের পেন্টহাউস দুটি ২০১৪ ও ২০১৬ সালে আনসারি কিনেছিলেন।
এর মধ্যে একটি ৩ হাজার ৯৪৪ বর্গফুটের পাঁচ বেডরুমের ডুপ্লেক্স। ২০১৬ সালে এটি ১ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডে কেনা হলেও বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের কিছু কম দামে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। অর্থাৎ ক্রয়মূল্যের তুলনায় দাম কমেছে ৭০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি।
অন্য পেন্টহাউসটি ২০১৪ সালে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে কেনা হয়। সাত ও আটতলা জুড়ে বিস্তৃত এই সম্পত্তিতেও কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত ছাদ রয়েছে। তবে এর বর্তমান প্রকাশ্য বিক্রয়মূল্য জানা যায়নি।
পেন্টহাউস দুটির অবস্থান নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এগুলো কেনসিংটন প্যালেস এবং প্রিন্স উইলিয়াম ও ক্যাথরিনের সরকারি বাসভবনের কাছে। ভবনটি ইসরায়েলি দূতাবাস থেকেও ৫০ মিটারের কম দূরে। পেন্টহাউস থেকে দূতাবাসের পেছনের অংশ দেখা যায়।
যুক্তরাজ্যের সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা কর্মকর্তা রজার ম্যাকমিলানের মতে, এমন অবস্থান থেকে দূতাবাসের কর্মী ও দর্শনার্থীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ বা ছবি তোলার সুযোগ তাত্ত্বিকভাবে থাকতে পারে। তবে সম্পত্তিগুলো কখনো নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলি দূতাবাসও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ও পশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনসারি শেল কোম্পানির একটি বড় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এসব সম্পদের চূড়ান্ত সুবিধাভোগী হিসেবে মোজতবা খামেনি, তার পরিবার ও ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড বাহিনীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
গত জুলাইয়ে আনসারিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ‘মূল অর্থদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে নিষেধাজ্ঞা দেয় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। এরপর যুক্তরাজ্যে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সম্পত্তিগুলো আদালত নিয়োগকৃত তত্ত্বাবধায়কদের অধীনে যায়। ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে এখন এগুলো নিলামে তোলা হচ্ছে।
তবে আনসারির আইনজীবী মোজতবা খামেনি বা আইআরজিসির সঙ্গে তার আর্থিক সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন তিনি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।