তৌহিদ হোসেন বিগত ১৫ বছরের বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন এবং মন্তব্য করেন যে, শুধু সরকারের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক থাকলেই জনগণের স্বার্থ উদ্ধার হয় না।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ভারতের 'উষ্ণ সম্পর্ক' ছিল, কিন্তু সেই সম্পর্কে বাংলাদেশের জনগণের সন্তুষ্টি ছিল না। তিনি বলেন, "উষ্ণ সম্পর্ক দুটি সরকারের মধ্যে ছিল। জনগণের ভূমিকা সেখানে অনেক কম ছিল। অনেক অভিযোগ থাকলেও তৎকালীন সরকার বিবেচনায় নেয়নি।"
তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন:
"তিস্তার পানি ও সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনা, ক্ষোভ বাংলাদেশের সবার ছিল। ভারতের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্কের যে সরকার ছিল ১৫ বছর, তারা এই দুটোর একটিরও কি কোনো সমাধান করতে পেরেছে? অর্থাৎ এই বাহ্যিক উষ্ণতা কোনো বিষয় না। বিষয় হচ্ছে, আমাদের স্বার্থ উদ্ধার হচ্ছিল কি না, হচ্ছিল না—স্পষ্টতই।"
তৌহিদ হোসেন সীমান্ত হত্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত, যেখানে যুদ্ধাবস্থা নেই তারপরও গুলি করে মানুষ মারা হয়। পৃথিবীতে আর দ্বিতীয় কোনো সীমান্তে এরকম নেই। এটার কোনো সমাধান আমি আপাতত দেখতে পাচ্ছি না।"
বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান:
দণ্ডিত হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দ্রুততম সময়ে ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। তবে ভারত তাঁকে ফেরত না দিলেও ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক আটকে থাকবে না।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতে আছেন, সে বিষয়ে ঢাকা নিশ্চিত। তবে দিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি এবং তাঁকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা শুরু হয়নি।
তারেক রহমান লন্ডনে কোন 'স্ট্যাটাসে' আছেন, তা সরকার জানে না। তিনি দেশে ফিরতে চাইলে অন্য কোনো দেশ আটকাতে পারে—এটাকে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডেস্ক রিপোর্ট