জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দলীয় কোন্দল, বিরোধী দলের সংঘর্ষ ও পারস্পরিক অভিযোগ–সব মিলিয়ে নতুনভাবে সহিংসতার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে রাজনীতির মাঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
গত জুলাইয়ের গণআন্দোলনে ফ্যাসিবাদ পতনের পর ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যাশা জেগেছিল জনগণের মনে। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই আশাবাদ মলিন হয়ে পড়ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অসহিষ্ণুতার পুরোনো ধারা ফিরে আসায়। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক)-এর হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং প্রায় চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু বলেন, জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। “এটি কেবল নির্বাচনী সময়ে নয়, বরং মতাদর্শিক বিরোধ থেকেও সংঘাত তৈরি হয়। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—সংঘর্ষ চাই না, কিন্তু যদি অন্য পক্ষ উসকানি দেয়, আমাদের মতবাদ আমরা প্রচার করব।” টুকু আরও মনে করেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকরভাবে দায়িত্ব না নিলে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে।”
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, কিছু এলাকায় “প্রতিযোগিতার জায়গায় উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে,” যা সব পক্ষের জন্যই অশুভ সংকেত। তিনি মনে করেন, “রাজনৈতিক সমতা বজায় রাখতে পারলে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মাত্রা কমে যাবে।”
জাতীয় নাগরিক কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ বলেন, “শত বছরের রাজনৈতিক কালচার হঠাৎ করে পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে জুলাই-পরবর্তী সময়টিতে তা বদলের প্রয়োজন ছিল। রাজনীতিতে কথার লড়াই হোক, হাতের লড়াই নয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদল কঠিন হলেও জুলাই-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দলগুলোর উচিত ছিল নতুন বার্তা ও ইতিবাচক আচরণ প্রদর্শন করা। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আল মাসুদ হাসানুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, “দলীয় স্বার্থে অনৈক্য বাড়লে জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। সাংবিধানিক সংস্কার ও সংস্কৃতি পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দলগুলোকে ছাড় দেয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।”
ডেস্ক রিপোর্ট