সংবিধান সংস্কারে লংমার্চ নয়, আলোচনায় আসুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
উচ্চকক্ষের ক্ষমতা ও কার্যপরিধি নির্ধারণে রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর গুরুত্বারোপ সালাহউদ্দিন আহমদের
- আপলোড সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৭:৪৭:০৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৭:৪৭:০৫ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৪ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
সংবিধান সংস্কার নিয়ে রাজপথে লংমার্চ না করে আলোচনায় বসার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, উচ্চকক্ষ গঠন, এর ক্ষমতা ও কার্যপরিধি নির্ধারণসহ সাংবিধানিক বিভিন্ন বিষয়ে সমাধানে পৌঁছাতে রাজনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে লংমার্চ করে সমাধান সম্ভব নয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, উচ্চকক্ষ পিআর পদ্ধতিতে গঠিত হলে এর ক্ষমতা, কর্মপরিধি ও এখতিয়ার কী হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। এ জন্য বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে অংশ নিতে হবে। নোট অব ডিসেন্টগুলো শিথিল করার বিষয়েও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
উচ্চকক্ষের ক্ষমতা নির্ধারণের পাশাপাশি আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেন তিনি। নিম্নকক্ষে পাস হওয়া আইন উচ্চকক্ষে পাঠানো হলে কত দিনের মধ্যে তা পর্যালোচনা ও নিষ্পত্তি করতে হবে, সেটি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, উচ্চকক্ষের সদস্যদের গাড়ি, বাড়ি ও বেতন-ভাতার মতো সুযোগ-সুবিধা না দেওয়ার একটি প্রস্তাবের সঙ্গে তিনি একমত। এ ছাড়া উচ্চকক্ষে কোন ধরনের সাংবিধানিক সংশোধনী যাবে এবং সেগুলো পাসের জন্য কত সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, তা নিয়েও সমঝোতা দরকার।
সংবিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আদেশের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদেশ দিয়ে সংবিধান স্পর্শ করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হলে লিখিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট দলকে পরবর্তী সংসদে রাজনৈতিক জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
তিন জোটের রাজনৈতিক সমঝোতা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রথমে মেনে নিতে না চাইলেও পরবর্তী সময়ে জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে তা গ্রহণ করা হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইন অনুযায়ী তার দায়িত্ব ও জবাবদিহিও নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে প্রতিষ্ঠানও স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠতে পারে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচারকদের জবাবদিহির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। বিচারক নিয়োগ ও বিচার বিভাগের বিভিন্ন কাঠামোগত বিষয়েও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনসভার সদস্য নির্বাচন করেন এবং তাদের মাধ্যমে সংসদে সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। এ কারণে বাস্তবিক অর্থে সংসদ সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।