গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধ
সুইচ চালু করতেই বিস্ফোরণ, পরিবারের কর্তার শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় অবস্থা সংকটাপন্ন
- আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬ ০৮:৪৮:২২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-১০-২০২৬ ০৮:৪৮:২২ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৮ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের কাশিমপুরের সারদাগঞ্জ এলাকায় রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজের ঘটনায় আগুনে শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে পরিবারের কর্তা রিয়াজুল শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, রিয়াজুল শেখের (৪০) শরীরের প্রায় ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রী আরিফা বেগমের (৩৫) শরীরের ৫ শতাংশ, মেয়ে মোছা. ফারিয়ার (১৭) ৮ শতাংশ এবং পুত্রবধূ রোজিনা বেগমের (১৮) ও এক বছর বয়সী শিশু মো. রহিমের শরীরের এক শতাংশের কম পুড়ে গেছে। বর্তমানে পাঁচজনই ওই ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দগ্ধ রিয়াজুল শেখের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের কাশিমপুরের সারদাগঞ্জে স্কয়ার গেটসংলগ্ন একটি বাসায় তাঁরা বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে পাশের একটি কক্ষ থেকে তীব্র গ্যাসের গন্ধ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে ওই কক্ষের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিস্ফোরণ ঘটে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রোজিনা বেগম জানান, তাঁদের বাসায় তিনটি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কক্ষে পরিবারের সদস্যরা থাকতেন এবং পাশের আরেকটি ছোট কক্ষে অন্য এক দম্পতি বসবাস করতেন। ওই দম্পতি সকালে কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁদের কক্ষের সামনে গ্যাসের গন্ধ পান রোজিনার শাশুড়ি।
রোজিনা বলেন, তাঁর শাশুড়ি বিষয়টি তাঁকে ও শ্বশুরকে জানান। পরে ওই দম্পতির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তাঁরা বাথরুমে রাখা চাবি দিয়ে কক্ষের দরজা খুলে ভেতরে পরীক্ষা করার অনুরোধ করেন। এরপর রিয়াজুল শেখ, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে চাবি নিয়ে কক্ষটির দরজা খোলেন। ঘরটি অন্ধকার থাকায় রিয়াজুল সুইচ চালু করতে গেলে বিকট শব্দে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়।
এতে রিয়াজুল, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে, পুত্রবধূ ও এক বছর বয়সী নাতি দগ্ধ হন। পরে রোজিনার স্বামী আকাশ স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাঁদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
রোজিনা আরও জানান, তিনি ও তাঁর শিশু দরজার বাইরে থাকায় তুলনামূলক কম দগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা সবাই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দগ্ধ রিয়াজুল শেখের বাবার নাম কালা মিয়া শেখ। তাঁদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার কেষ্টপুর গ্রামে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।