গণতন্ত্র রক্ষায় সরকার আন্তরিক, বললেন ডেপুটি স্পিকার
ইউএনডিপির সঙ্গে বৈঠকে সংসদীয় প্রশিক্ষণ, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জনপ্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা
- আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৬ ০৯:৫০:২৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-১০-২০২৬ ০৯:৫০:২৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৯ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে বর্তমান সরকার আন্তরিক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকায় নিজের কার্যালয়ে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ, সংসদীয় কমিটির কার্যক্রম, লিঙ্গসমতা এবং জনপ্রশাসন সংস্কারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
কায়সার কামাল বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও গণতান্ত্রিক উত্তরণ সহজ ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন। ক্ষমতার সুষ্ঠু হস্তান্তর এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনেও তাঁর অবদান রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ডেপুটি স্পিকার।
তিনি বলেন, ইউএনডিপি বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সংস্কারে সংস্থাটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিগত সরকারের শাসনের অবসান ঘটে। জেনারেশন জেড বা জেনজির আন্দোলনের পথ অনুসরণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকারের মাধ্যমে বর্তমান সরকার নির্বাচিত হয়েছে।
বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির সম্পর্ক রয়েছে। জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য ওরিয়েন্টেশন কোর্স ও প্রশিক্ষণ পরিচালনায় সহযোগিতা দিতে ইউএনডিপি প্রস্তুত। পাশাপাশি সংসদীয় কমিটিগুলোকে সহায়তা এবং লিঙ্গসমতা নীতি বাস্তবায়নেও সংস্থাটি আগ্রহী।
বৈঠকে জনপ্রশাসন ও আমলাতান্ত্রিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় ইউএনডিপির ডেপুটি আবাসিক প্রতিনিধি সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন দেশের প্রায় ৩২৫টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তন এবং বাস্তবভিত্তিক ও জ্ঞানভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে ইউএনডিপি ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।