শুক্রবার স্লিউসার জানান, রাতভর রোস্তভ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০টি ড্রোন ধ্বংস করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে হামলায় নোভোশাখতিনস্ক তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারটির বার্ষিক অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন, যা দৈনিক প্রায় ১ লাখ ব্যারেলের সমান। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত জ্বালানির বড় অংশ রপ্তানি করা হয়। ফলে হামলার কারণে শুধু রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নয়, দেশটির জ্বালানি রপ্তানিতেও প্রভাব পড়তে পারে।
রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, নোভোশাখতিনস্ক ও কামেনস্ক-শাখতিনস্ক শহরসহ অঞ্চলের ছয়টি জেলায় রাতভর ড্রোন হামলা হয়। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব এলাকায় প্রায় ৫০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার পর শোধনাগারে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।
নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারটি রোস্তভ অঞ্চলের একমাত্র কার্যকর তেল শোধনাগার এবং দক্ষিণ রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত। এর উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে পেট্রোল, ডিজেল, জাহাজের জ্বালানি, ফার্নেস ফুয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে।
রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা নতুন নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় চাপ তৈরি করাই এসব হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য।
নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারে এবারের হামলার সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের বিষয়ে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
এর আগে জেলেনস্কি জাতিসংঘে সতর্ক করে বলেছিলেন, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে সমঝোতা না হলে ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে এবং আসন্ন শীতে রাশিয়ার জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলবে। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবারের হামলায় শুধু নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারই নয়, রাশিয়ার আরও কয়েকটি অঞ্চলের শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনাও আক্রান্ত হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, রাতভর হামলায় রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগার ও একটি যাত্রীবাহী ট্রেনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, পুরো দেশজুড়ে ওই রাতে মোট ৫৯২টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলা এবং ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় রুশ হামলা- দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ যুদ্ধের সামরিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে।