ইয়েমেনের হুথিদের হামলার মুখে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু শহরের জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় এসব সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) টিএফ১ ও ফ্রান্স ২ টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে চূড়ান্ত হওয়া একটি চুক্তির আওতায় ইয়ানবুর স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা পাঠানো হবে। তবে এ মোতায়েনের উদ্দেশ্য কোনো সংঘাতে ফ্রান্সকে জড়ানো নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ফ্রান্স ঠিক কতজন সেনা পাঠাবে এবং কী ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হবে, তা ম্যাক্রোঁ বিস্তারিত জানাননি। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও সামরিক সহায়তা বিবেচনা করা হতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তের আগে বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, ইয়ানবু ও তাইফ লক্ষ্য করে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সময়ে হুথিরা ইয়ানবুর সৌদি আরামকোর স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে। এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইয়ানবু সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ও লোহিত সাগরভিত্তিক তেল রপ্তানি কেন্দ্র। সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনও ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত, ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার মধ্যে স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের ঘোষণাটি এমন সময়ে এলো, যখন ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের হামলায় সৌদির জ্বালানি অবকাঠামো ও লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ম্যাক্রোঁর ঘোষণায় স্পষ্ট করা হয়েছে, ইয়ানবুতে ফরাসি সামরিক উপস্থিতির মূল লক্ষ্য প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়া; সরাসরি সংঘাতে অংশ নেওয়া নয়।