ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়সীমা কমানোর নির্দেশ দেন। এসব বৈঠকের কয়েকটিতে প্রধানমন্ত্রী নিজেও উপস্থিত ছিলেন। গোয়েন্দা মূল্যায়নে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট সতর্কবার্তার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সেসব তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
নতুন নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে ইসরায়েল ত্যাগ করে বৃহস্পতিবার ভোরে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা নেতানিয়াহুর। সেখানে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রেখেই তিনি ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হবেন।
গাজায় অব্যাহত হত্যাযজ্ঞ ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে ব্যপক বিক্ষোভের প্রস্তুতির মধ্যেই এই ঝটিকা সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সফরের মাত্র একদিন আগে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং ‘গণহত্যার পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে আখ্যা দেন। এর আগে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) জারি করা পরোয়ানা অনুযায়ী নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, যদিও নগর কর্তৃপক্ষের সেই আইনগত এখতিয়ার নেই বলে তিনি স্বীকার করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালাল্টের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।
এই সংক্ষিপ্ত সফরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো বৈঠক থাকছে না। ইসরায়েলি পক্ষের জোর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দুই নেতার সময়সূচি না মেলায় বৈঠকটি বাতিল করতে হয়। এ ছাড়া, টেক্সাসে প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ইলন মাস্কের সঙ্গে নির্ধারিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও বাতিল করা হয়েছে, যার প্রস্তুতি নিতে একটি ইসরায়েলি দল ইতিমধ্যে টেক্সাসে অবস্থান করছিল।