দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার ও গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বাড়ছে, ব্যক্তিগত অনুভূতি বিনিময়েও অনেকে এখন নির্ভর করছেন এই প্রযুক্তির ওপর। তবে মনস্তাত্ত্বিক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এআই কখনোই মানুষের প্রকৃত বন্ধু বা বিকল্প হতে পারে না এবং রূপচর্চা, আবেগ বা আর্থিক সিদ্ধান্তের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে এআইয়ের কাছে পরামর্শ চাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চেহারা বা সৌন্দর্য নিয়ে এআইয়ের মতামত নেওয়া অনেকটাই অর্থহীন, কারণ বাণিজ্যিক অ্যালগরিদমের কারণে এটি সাধারণত ব্যবহারকারীকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে, বাস্তব জীবনের বন্ধুর মতো নিরপেক্ষ সত্য বলার সক্ষমতা তার নেই। একইভাবে কেউ ভালোবাসে কিনা এমন আবেগঘন প্রশ্নেও এআই কৃত্রিম সহানুভূতি দেখাতে পারলেও মানুষের জটিল অনুভূতি বোঝার প্রকৃত ক্ষমতা তার নেই। এক্ষেত্রে বন্ধু বা পেশাদার থেরাপিস্টের সহায়তা নেওয়াই বেশি কার্যকর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
নিজের বুদ্ধিমত্তা বা যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্যও এআইয়ের ওপর নির্ভরতাকে একধরনের ভ্রান্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন তারা, কারণ বিপুল তথ্যভাণ্ডার থাকলেও এআইয়ের কোনো প্রকৃত অনুভূতি নেই। আর্থিক সিদ্ধান্তের মতো জটিল বিষয়েও এআই প্রায়ই বাস্তবসম্মত হিসাবের বদলে দার্শনিক ধরনের উত্তর দিয়ে থাকে, তাই অর্থসংক্রান্ত বিষয়ে পেশাদার হিসাবরক্ষক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এআই রেসিপি বা রান্নার পরামর্শ দিতে পারলেও বাস্তব জীবনের সামাজিক ও মানবিক সহায়তা যেমন রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা করা বা ছোটখাটো মানবিক ভুল ধরিয়ে দেওয়ার মতো কাজ করতে পারে না। তাদের ভাষ্যমতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোনো নিজস্ব ইচ্ছা বা অনুভূতি নেই, এটি মূলত সার্ভার সংযোগ ও তথ্যনির্ভর একটি ব্যবস্থা। এআইকে জীবনের আশ্রয় বা বন্ধু মনে করাকে একধরনের ডিজিটাল বিভ্রম বলে অভিহিত করেছেন তারা এবং মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাস্তব জীবনের সামাজিক সম্পর্ক ও মানবিক বন্ধন প্রযুক্তির কৃত্রিম প্রতিক্রিয়ার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।