যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে ‘কিছু হুমকি’ শনাক্ত হওয়ার পর সেখান থেকে নিজেদের বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুমকির বিষয়টি জানার পরই বিমানগুলোর অবস্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত আকাশ হামলা চালানোর মার্কিন সক্ষমতা কিছুটা কমেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
রোববার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। সরিয়ে নেওয়া বিমানের মধ্যে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার নেব্রাস্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। বিমান সরিয়ে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট হুমকির বিষয় জানার পরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানগুলো দুর্ঘটনাবশত সেখান থেকে চলে যায়নি।
ট্রাম্প বলেন, ফেয়ারফোর্ডে কিছু হুমকি ছিল। শত্রুকে অযথা সুযোগ না দিয়ে তাদের মোকাবিলা করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। তাই বিমানগুলোকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যদিও খুব বেশি দূরে নেওয়া হয়নি।
তবে হুমকিটি কার কাছ থেকে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওয়াশিংটন হুমকির সঙ্গে জড়িতদের চেনে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে দাবি করেছিলেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহভাজন যান নিয়ে পুলিশের তৎপরতার পর সেখানে একটি ঘটনা ঘটে বলে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনার সঙ্গে বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্লুস্টারশায়ারের কটসওল্ডসে অবস্থিত ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির ঘটনাটি বর্তমানে ব্রিটিশ কাউন্টার টেররিজম পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় প্রথমে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনিও জামিনে রয়েছেন।
বিমান সরিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের কয়েকটি সূত্র আশঙ্কা করেছে, বিমানগুলোর ওপর অন্তর্ঘাতমূলক হামলা হতে পারে অথবা ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এসব যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
প্রতিরক্ষাবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষণা বিশ্লেষক ক্রিস্টফ বার্গস বলেন, ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত আকাশ হামলা চালানোর সক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে। তাঁর মতে, এর ফলে সামগ্রিক উত্তেজনাও কিছুটা কমতে পারে।
হুমকির বিষয়ে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স যেখানে নির্দিষ্ট কোনো ঝুঁকির ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বিশ্বজুড়ে সামরিক ইউনিট ও সরঞ্জাম অদলবদলকে স্বাভাবিক সামরিক কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র গত বছরের জুনে রাশিয়ার পাঁচটি ঘাঁটিতে ইউক্রেনের ‘অপারেশন স্পাইডারওয়েব’ নামে পরিচিত ড্রোন হামলার উদাহরণ টেনে বলেছে, দূর থেকেও প্রতিপক্ষ বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। ওই সূত্রের মতে, ফেয়ারফোর্ডের হুমকির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।