সোমবার দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য পাঁচ বছরের শপথ গ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ স্পষ্ট জানান, আদান-প্রদানের নীতির ভিত্তিতে ইথিওপিয়া সমুদ্রের পথ অর্জনে নিরলস কাজ করে যাবে। ১৯৯৩ সালে ইরিত্রিয়া স্বাধীনতা লাভের পর ইথিওপিয়ার আসাব বন্দরটি হাতছাড়া হয়, যার ফলে দেশটি সম্পূর্ণ ভূবেষ্টিত হয়ে পড়ে। এর পর থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য ইথিওপিয়া মূলত জিবুতির ওপর নির্ভরশীল হলেও বিকল্প বন্দরের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছে আদ্দিস আবাবা।
লোহিত সাগরে প্রভাব বিস্তারের এই দৌড়ে একাধিক আঞ্চলিক পদক্ষেপ নিয়েছে ইথিওপিয়া। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটি সোমালিল্যান্ডের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যা তাদের সমুদ্র উপকূলে প্রবেশাধিকার এবং একটি নৌঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দেবে।
উল্লেখ্য, সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হতে যাওয়া এই অঞ্চলটিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থন দিয়ে আসছে এবং ইসরায়েল স্বীকৃতি দিয়েছে। যদিও সোমালিয়া প্রথমে এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছিল, পরবর্তীতে মোগাদিসুর পক্ষ থেকে আলোচনার সুযোগ তৈরি করা হয়। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ সম্প্রতি আবি আহমেদকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, একটি প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে ইথিওপিয়াকে সমুদ্রপথে যোগাযোগের সুযোগ দিতে তাদের কোনো আপত্তি নেই।
তবে ইথিওপিয়ার অন্যান্য প্রতিবেশীরা অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। মিশরের নিউ আলামিন শহরে মিশর, ইরিত্রিয়া, সুদান ও সোমালিয়ার নেতারা যৌথভাবে বৈঠক করে জানিয়েছেন, লোহিত সাগরে চলাচলের স্বাধীনতা থাকলেও উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোরই এর ওপর একচ্ছত্র এখতিয়ার রয়েছে। কোনো একতরফা পদক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। একই সাথে তারা নীল নদের পানি বণ্টন ইস্যুতে মিশরের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়েও ইথিওপিয়াকে সতর্ক করেছে।
ইথিওপিয়ার এই সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক চাওয়া-পাওয়ার পেছনের প্রেক্ষাপট আরও জটিল হয়ে উঠেছে দেশটির অভ্যন্তরীণ তিগ্রাই যুদ্ধের কারণে। উত্তরাঞ্চলের তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের সাথে সরকারের সংঘাত পুনরায় তীব্র আকার ধারণ করেছে, যেখানে সরকারি বাহিনী তিগ্রাইয়ের আঞ্চলিক রাজধানী মেকেলে পুনরায় নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। দেশটির এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে প্রতিবেশীদের ওপরও। অন্যদিকে, আসাব বন্দর কেন্দ্রিক ভৌগোলিক বিরোধে ইরিত্রিয়ার সাথে ইথিওপিয়ার সম্পর্ক এখন তলানিতে ঠেকেছে। গত সপ্তাহে আসমারা থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার এবং ইথিওপীয় কূটনীতিকদের বহিষ্কারের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে ফাটল ধরেছে। এ অবস্থায় আফ্রিকান ইউনিয়ন সংঘাত নিরসনে উভয় পক্ষকে সংযম অবলম্বন এবং আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছে।