সম্প্রতি এক সম্মেলনে জয়শঙ্কর বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারত এখন আর শুধু বক্তব্য দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি সম্পৃক্ত হচ্ছে। কৃষ্ণ সাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ এবং সম্ভাব্য ‘আক্রমণ না করার’ বিষয়েও দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তার বক্তব্যে সংঘাত নিরসনে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারত যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে মস্কোর সরাসরি সমালোচনা করা থেকে বিরত থেকেছে নয়াদিল্লি। ইউক্রেন যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ভোটাভুটিতেও ভারত ভোটদানে বিরত থেকেছে।
গত আগস্টের শেষ দিকে কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই বৈঠকে তিনি সংঘাতের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান।
জয়শঙ্কর বলেন, যুদ্ধের অবসানে সংলাপ ও কূটনীতির কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত হয়েছে। জ্বালানি, মহাকাশ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে আরেকটি বৈঠক করেন মোদি। সেখানে দুই নেতা ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার করেন। এমন এক সময়ে এই বৈঠক হয়, যখন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সীমিত করতে চাপ দিচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে রুশ তেল কেনা বন্ধে নয়াদিল্লির ওপর চাপ প্রয়োগ করে ওয়াশিংটন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় ভারতের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কিছুটা কমলেও পরবর্তী সময়ে তা আবার বেড়ে যায়। ফলে জ্বালানি খাতে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিরক্ষা খাতেও রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর বহরে রাশিয়ার তৈরি শত শত যুদ্ধবিমান এবং একাধিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাতের সময় এসব প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কয়েকটি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।