ফরিদপুরে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নাসরিন সুলতানা (৩০) নামের এক নারী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার সাত নম্বর চৌধুরীকান্দা এলাকার মিরাজ শেখের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের মা।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় নাসরিন সুলতানাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে রক্ত পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
নাসরিনের স্বামী মিরাজ শেখের অভিযোগ, গত রোববার জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তার স্ত্রীকে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে কয়েকটি পরীক্ষা করা হলেও ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়নি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বাইরে থেকে চিকিৎসক দেখিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়
।
মিরাজ শেখের দাবি, সরকারি হাসপাতালে আগেই ডেঙ্গু শনাক্ত হলে আরও দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতে পারত।
ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১১ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি সময়ে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৩ জনে। বর্তমানে ২৫ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।