হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশের আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না বলে দাবি করলেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই অনুনয় করছে। একই সময়ে নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে একটি দেশটির জলসীমার বাইরে এবং অন্যটি জলসীমার ভেতরে গিয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে আবুধাবি।
সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে ব্যাকচ্যানেল যোগাযোগের দাবি করলেও ট্রাম্প পরে জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং আলোচনার কোনো সময়সূচিও নির্ধারিত হয়নি।
এর প্রতিক্রিয়ায় আব্বাস আরাঘচি দাবি করেন, আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই আগ্রহ দেখিয়ে অনুনয় করছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে নিউ ইউএস টেরিটরি হিসেবে চিহ্নিত করা একটি ছবি প্রকাশ করেন, যা দুই দেশের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়ে তেহরানের শর্তও স্পষ্ট করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি জানান, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ছাড়, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সামরিক অভিযান ও হুমকি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি খোলা হবে না।
এই অচলাবস্থার প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে পৃথক আলোচনা চলছে। কাতারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার পথ সহজ হতে পারে। আঞ্চলিক সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।