চলতি বছর কানাডায় ভয়াবহ দাবানলে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে, যা দেশটির নোভা স্কোশিয়া প্রদেশের আয়তনের সমান। একই সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও তীব্র গরম, খরা ও প্রবল বাতাসের কারণে দাবানল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
কানাডাজুড়ে বর্তমানে ৫৮০টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৩০টি আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা চার বছর ধরে বিশাল বনাঞ্চল দাবানলের কবলে পড়েছে, যা পরিবেশ ও বনসম্পদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে সার্বিয়ায় তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে আগুন জ্বলছে। শত শত দমকলকর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও এখন পর্যন্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। দেশটিতে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টরের বেশি বন, তৃণভূমি ও নিচু গাছপালা পুড়ে গেছে। উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে দিক পরিবর্তনকারী প্রবল বাতাস আগুন দ্রুত ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে।
বেলজিয়ামেও ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এলাকা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওয়েমেস বনাঞ্চলে মাটির নিচে বছরের পর বছর জমে থাকা শুকনো ও পচা গাছপালার স্তরেও আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আগুন শনাক্ত করা দমকলকর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের আশঙ্কা, আগুন পুরোপুরি নেভাতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
বেলজিয়াম, জার্মানি ও লুক্সেমবার্গের প্রায় ৫০০ দমকলকর্মীর পাশাপাশি কৃষক, সেনাবাহিনী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি বিমানও আগুন নিয়ন্ত্রণে যৌথভাবে কাজ করছে।
এদিকে ব্রিটেনে চলতি বছর পাঁচটি তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ বর্তমানে খরাপ্রবণ এলাকায় বসবাস করছেন। খরায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় অতিরিক্ত ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, তীব্র তাপমাত্রা ও দীর্ঘস্থায়ী খরা পরিস্থিতিই কানাডা ও ইউরোপজুড়ে দাবানল বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।