হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো পণ্য খালাসের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে অস্থায়ী ও স্থায়ী ওয়্যারহাউস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ওষুধসহ তাপমাত্রা-সংবেদনশীল পণ্য দ্রুত সংরক্ষণ ও খালাসের জন্য কোল্ড স্টোরেজ অবকাঠামো তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অস্থায়ী ওয়্যারহাউসের জন্য সাতটি এবং স্থায়ী ওয়্যারহাউসের জন্য চারটি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিমানবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং সমস্যা সমাধানে আয়োজিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দ্রুত দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ওয়্যারহাউস নির্মাণের জন্য চিহ্নিত সম্ভাব্য স্থানগুলো যাচাই করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বিশেষ করে ওষুধ আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। তাপমাত্রা-সংবেদনশীল পণ্য দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে আটকে থাকলে সেগুলোর মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়তে পারে। আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ চালু হলে এসব পণ্য নির্ধারিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে দ্রুত খালাসের সুযোগ তৈরি হবে।
কার্গো ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। আমদানি করা পণ্যের নোটিশ দ্রুত আমদানিকারকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পণ্য সহজে শনাক্ত ও খুঁজে বের করার কাজে এআইভিত্তিক মডেল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম কার্গো খালাসে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারে বাংলাদেশ শুধু অনুসরণকারী হিসেবে থাকতে চায় না; বরং নেতৃত্বের অবস্থানে যেতে চায়। দ্রুত কার্গো খালাসে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিমানবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের বৈধতা, প্রয়োজনীয় ঘোষণা, কাগজপত্র ও শুল্কসংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করা কাস্টমসের দায়িত্ব। অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরি হলে কাস্টমস সেখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সরাসরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন না হলেও দেশের বাণিজ্য ও রপ্তানি কার্যক্রমের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে আধুনিক কার্গো ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। তাই সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
সভায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী।
সভায় বাণিজ্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।