জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবু হাসান আলা হিজবুল্লাহর বদর ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার ছিলেন। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর অভিযান পরিচালনায় তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, সপ্তাহান্তে দক্ষিণ লেবাননের আনসার এলাকায় হিজবুল্লাহর একটি সামরিক সদর দপ্তরে নির্ভুল হামলার পর আলাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। এর আগে ওই স্থাপনায় হামলায় হিজবুল্লাহর অভিজাত রাদওয়ান বাহিনীর একটি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার আলি সামির আল হাজ হাসান নিহত হন বলেও দাবি করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল লেবানন সীমান্তের ওপারে সংঘর্ষের জবাবে সপ্তাহান্তে দুটি বিমান হামলা চালায়। ওই সংঘর্ষে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তিন সেনা গুরুতর আহত হন। আনসারের স্থাপনায় হামলার সময় বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত কমান্ডার হাসানের পরিবারের সদস্যরা ওই স্থাপনায় ছিলেন, বিষয়টি হামলার সময় বাহিনী জানত না।
জেরুজালেম পোস্টের উদ্ধৃত সামরিক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী অভিযোগ করেছে, হিজবুল্লাহ সামরিক স্থাপনার ভেতরে বেসামরিক মানুষ রাখে এবং তাদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদনে কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে গাজা উপকূলজুড়ে নতুন উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালুর কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। আয়রন ওয়াল নামে পরিচিত এই ব্যবস্থা সমুদ্রপথে সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে পশ্চিম তীরেও নিরাপত্তা অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কুসরা গ্রামের কাছে দুটি অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহান্তে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও স্থানীয় ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর এ অভিযান চালানো হয়।
দক্ষিণ লেবাননে হামলা বাড়ার মধ্যে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইসরায়েলি সেনা ও নাগরিকদের ক্ষতি করলে পূর্ণ শক্তি দিয়ে জবাব দেওয়া হবে।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব ঘটনার পর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।