দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার আনসার শহরতলিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। গত জুনে সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে চুক্তি হওয়ার পর এটি অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সময় শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আনসারের একটি বাড়িতে হামলাটি চালানো হয়। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে, হামলার সময় ওই বাড়িতে কয়েকটি বাস্তুচ্যুত পরিবার বসবাস করছিল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের সেনাদের বিরুদ্ধে চালানো আগের একটি হামলার জবাবে হিজবুল্লাহর কথিত সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর ইসরায়েলি হামলা চলে।
শনিবার সকালে দেইর আল জাহরানি শহরেও হামলা চালানো হয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় দুজন নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছেন।
আনসারে একটি পরিবারের সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনায় ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তিনি যুদ্ধবিরতি কাঠামো বারবার লঙ্ঘনেরও সমালোচনা করেন।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেছেন, নিহত বেসামরিক ব্যক্তিরা কোনো সামরিক অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের ভূখণ্ডে নিরাপদে বসবাসের অধিকার নিয়ে লেবাননের জনগণের সঙ্গে কোনো আপস হতে পারে না।
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ জানিয়েছে, ইসরায়েলি নাগরিক ও নিরাপত্তা অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত সেনাদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর সামরিক বাফার অঞ্চলকে তারা নিরাপত্তা এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আইডিএফের দাবি, আনসারে হামলার পেছনে যে ঘটনা রয়েছে, সেটি আলী আল তাহের রিজ এলাকায় ঘটেছিল। দক্ষিণ পূর্ব লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই উঁচু অঞ্চলটি সাম্প্রতিক সংঘাতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, ওই রিজের আশপাশেও ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী বিন্ত জবেইল এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ধ্বংস এবং বাড়িঘর লক্ষ্য করে ভারী মেশিনগানের গুলি চালানোর খবরও পাওয়া গেছে।
গত ২ মার্চ ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাতে লেবাননও জড়িয়ে পড়ে। ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানোর পর ইসরায়েল লেবাননজুড়ে বিমান হামলা শুরু করে এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্থল অভিযান পরিচালনা করে। বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের প্রায় ৫ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।