উত্তর সুমাত্রায় ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। এতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে দেশটিতে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ পদার্থবিদ্যা সংস্থা বেএমকেজির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের পেমাতাংসিয়ান্তার শহরের ১৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৬৩ কিলোমিটার গভীরে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভূমিকম্পের কম্পন আশপাশের এলাকায় অনুভূত হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কিছু স্থানে তাক থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া ও জানালা ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১৫ কিলোমিটার গভীরে। শক্তিশালী এই কম্পনের পর উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় সমুদ্রের পানি সরে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে সুনামির আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা না থাকায় সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
প্রথম ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে ভবন ও বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি এবং আতঙ্কিত মানুষের ছোটাছুটি দেখা যায়। প্রাথমিক হিসাবে ৫৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাংগারাই প্রদেশকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো অনেকে নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থিত এবং বিভিন্ন টেকটনিক প্লেটের সক্রিয় গতিবিধির কারণে সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। দেশটিতে প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরিও রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্দোনেশিয়ায় একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। ২০২২ সালে পশ্চিম জাভার সিয়ানজুরে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৬০২ জন নিহত হন। ২০১৮ সালে সুলাওয়েসিতে ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে ৪ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। এরও আগে ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামিতে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। তাদের অধিকাংশই ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের বাসিন্দা।