পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীর সঙ্গে আকাশপথে আগুন নেভানোর বিমানও কাজ করছে। দক্ষিণাঞ্চলের পিরেনিজ-ওরিয়ঁতাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়া দাবানলে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া, তীব্র গরম এবং শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। ফ্রান্সের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বনাঞ্চলে অগ্নিঝুঁকিও বেড়েছে।
চরম গরমে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পর্যটক, কৃষক ও খোলা জায়গায় কর্মরত শ্রমিকরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না যাওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দাবানলের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ট্যুর দ্য ফ্রান্স-এও। আগুনের ঝুঁকির কারণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং দর্শকদের উপস্থিতি সীমিত করা হয়েছে। প্রতিযোগীদের জন্য অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি, বরফ ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রতিযোগিতার কিছু অংশ পরিবর্তনের প্রস্তুতিও রয়েছে আয়োজকদের।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপপ্রবাহ ও দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী খরা, উচ্চ তাপমাত্রা এবং শুষ্ক পরিবেশ আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ। তাদের মতে, ফ্রান্সের এবারের দাবানল জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ, যার প্রভাব জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক আয়োজনের ওপরও পড়ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট