ইয়েমেন থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরব-ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি খোলা এলাকায় আছড়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, রাডারে শনাক্ত হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি আঞ্চলিক দেশের দিকে যাচ্ছিল, তবে এর লক্ষ্যবস্তু বা উৎক্ষেপণের সুনির্দিষ্ট স্থান সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সোমবার (৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ধারিত গতিপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে সীমান্তসংলগ্ন একটি খোলা স্থানে পড়ে। ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনার পর ইরান স্পষ্টভাবে জানায়, তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হামলা পরিচালনা করেনি। অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা ইসরাইলকে লক্ষ্য করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে সৌদি সীমান্তের কাছে পড়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্রটি সেই হামলার অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরান সম্প্রতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিলেও লেবাননে নতুন করে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের জরুরি সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ লেবাননসহ অন্যান্য এলাকায় আগ্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
গত সপ্তাহে বৈরুতের ওপর সম্ভাব্য ইসরাইলি হামলার হুমকির পর তেহরান সতর্ক করে বলেছিল, এমন পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে দিতে পারে। একই সময়ে যুদ্ধের বিস্তার রোধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
তবে এসব সতর্কতার মধ্যেই রোববার (৭ জুন) বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এর কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন ইরান উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে তেহরান, তাবরিজ ও ইসপাহানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। ইসরাইলি হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ডেস্ক রিপোর্ট