তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ থানা পরিদর্শন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানীতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও সন্ত্রাস বেড়েছে— এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমি যোগদানের পর দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই দুই মাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখেছি, টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে আমাদের বাস্তব তথ্য ও পরিসংখ্যানের মিল নেই।
ছিনতাই প্রতিরোধে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যদের ২৪ ঘণ্টা মাঠে রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডিউটির বাইরে সম্ভাব্য ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোতেও বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত দুই মাসে অসংখ্য ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হয়েছে। ছুরি-চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে রাজধানীতে ছিনতাই অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমাদের লক্ষ্য এটিকে শূন্যের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।
তিনি বলেন, রাজধানীতে চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে অনেক অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির সব ইউনিট আন্তরিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে। কোথাও আইনশৃঙ্খলার অবনতির তথ্য পেলে গণমাধ্যম আমাদের জানালে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।
শাহবাগ থানাসহ ডিএমপির বিভিন্ন থানার ফোর্সের ব্যারাকের বেহাল দশা নিয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আজ শাহবাগ থানার বার্ষিক পরিদর্শনের অংশ হিসেবে থানার ডিউটি অফিসার, নারী ও শিশু সার্ভিস ডেস্ক, ফোর্সের ব্যারাক এবং কর্মকর্তাদের ব্যারাক ঘুরে দেখেছেন। পরিদর্শনে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা চোখে পড়েছে। শাহবাগ থানাটি অনেক পুরোনো। এই থানার জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তক্রমে ৩৩ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে ইতোমধ্যে সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আশা করছি, নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হলে ফোর্স ও কর্মকর্তাদের আবাসন সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। আপাতত সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই সদস্যদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
শাহবাগ থানার চারপাশে দীর্ঘদিন ধরে জব্দ করা শত শত গাড়ি পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে আরও বেশি গাড়ি সেখানে ছিল, এরই মধ্যে বেশ কিছু গাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির নিজস্ব কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। এজন্য সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ডাম্পিংয়ের জায়গা পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে যেসব ডাম্পিং সুবিধা রয়েছে, সেগুলোও ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত।
এখানে থাকা অনেক গাড়িই আদালতের আলামত এবং কিছু ফিটনেসবিহীন যানবাহন। এগুলো পাহারা দিয়ে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব, যাতে কোনো যন্ত্রাংশ চুরি বা ক্ষতি না হয়। আদালতের আলামতসহ অন্যান্য জব্দ যানবাহন আইন ও বিধি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ফিটনেসবিহীন যানবাহন জব্দের বিষয় তুলে ধরে কমিশনার বলেন, এজন্য বিআরটিএ’র একটি আলাদা ডাম্পিং স্টেশন রয়েছে। আমরা যেসব ফিটনেসবিহীন গাড়ি জব্দ করছি, সেগুলো সেখানে পাঠানো হচ্ছে। স্ক্র্যাপ নীতিমালা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি কার্যকর হলে ডাম্পিংয়ে থাকা ফিটনেসবিহীন যানবাহন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই টেন্ডারের মাধ্যমে স্ক্র্যাপ হিসেবে অপসারণ করা সম্ভব হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট