রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে সফরে গেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টার দিকে তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টার ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণ করে। পরে তিনি সার্কিট হাউজে গিয়ে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন এবং শহরের সেনুয়া এলাকায় তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।
রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনে রোববার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সকাল থেকেই জেলার পাঁচটি উপজেলা ও আশপাশের এলাকা থেকে মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করেন। রাষ্ট্রপতিকে একনজর দেখতে সেখানে ব্যাপক জনসমাগম হয়েছে।
সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও শহর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আলোকসজ্জা, বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে স্থানীয়ভাবেও নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি।
ঠাকুরগাঁও নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন, জেলার একজন সন্তান দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ায় এটি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য বিশেষ ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে স্মরণীয় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুর এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে তাঁর চলাচলের পথ, অনুষ্ঠানস্থল এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিভিন্ন স্থানে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। নিজ জেলার সন্তানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উৎসাহ ও আবেগের আবহ তৈরি হয়েছে।