জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ হিসেবে মন্তব্য করায় এর কড়া জবাব দিয়েছেন চসিক মেয়র। তিনি দাবি করেছেন, আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই তাকে বৈধভাবে মেয়র হিসেবে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে এবং ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শপথ নেওয়ার পর তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বহাল থাকার কথা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জামায়াত আমিরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে তার পাওয়া রায় তৎকালীন হাসিনা সরকার ছিনিয়ে নিয়েছিল। পরে অবৈধভাবে মেয়র হওয়া রেজাউল করিমের মেয়র পদ ও নির্বাচনের ফলের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। সেই মামলার রায়ের ভিত্তিতেই তাকে বৈধ মেয়র হিসেবে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শাহাদাত হোসেন বলেন, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের পর তিনি শপথ নিয়েছেন। ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া ওই রায়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় জামায়াতের সঙ্গে থাকা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন ছাত্রনেতাও সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন।
নিজের রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গে চসিক মেয়র বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত ওই রায়ের জন্য তিনি প্রায় তিন বছর ধরে লড়াই করেছেন। মামলাটি করতে গিয়ে তাকে ছয় মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক গায়েবি মামলা হয়েছে। গত ১৬ বছরে তার বিরুদ্ধে ১১০টির বেশি মামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াত আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে শাহাদাত বলেন, তার কথায় আওয়ামী লীগের আমলে নির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিমের মেয়াদকে বৈধতা দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তার দাবি, আদালতের রায়ে আওয়ামী লীগের মেয়রকে অবৈধ বলা হয়েছে এবং তার মেয়াদকেও অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিজের মেয়াদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর তিনি মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আদালতের রায় অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকার কথা।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে পদ ছাড়তে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন চসিক মেয়র। তিনি বলেন, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলে তিনি সেদিনই পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সবাইকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষেও তিনি মত দেন।
শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। মইনুদ্দিন ও ফখরুদ্দিন সরকারের সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য তিনি সংগ্রাম করে আসছেন বলেও দাবি করেন।
তিনি বলেন, তার মেয়াদ আদালতের রায় অনুযায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত হলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেই তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। যে কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে তিনি স্বাগত জানান এবং নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী সব পক্ষের অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।