মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে হাজার মাইল দূরে অবস্থিত ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' (WSJ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে গিয়ে মার্কিন প্যাট্রিয়ট (Patriot) প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এই সরবরাহ সংকট ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চরম দুর্বল করে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে, কারণ কিয়েভ রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে মূলত এই মার্কিন প্রযুক্তির ওপরই নির্ভরশীল।
প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা এমনিতেই সীমিত ছিল, যা নিয়ে ইউক্রেন আগে থেকেই সংকটে ভুগছিল। এখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্থাপনা রক্ষায় পেন্টাগনকে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। ফলে ইউক্রেনের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করা ওয়াশিংটনের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্যাট্রিয়ট মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের এই ঘাটতি রাশিয়ার জন্য ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জনবহুল শহরগুলোতে আকাশপথে বড় ধরনের হামলা চালানো অনেক সহজ করে দেবে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা রাশিয়ার জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে:
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা দুর্বল হওয়ার সুযোগ নিয়ে মস্কো তাদের আক্রমণের তীব্রতা বাড়াতে সক্ষম হবে।
ইরান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে অনেকটা বেড়ে গেছে। তেল রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে এই মূল্যবৃদ্ধি রাশিয়ার অর্থনীতির পালে নতুন হাওয়া দিচ্ছে। যুদ্ধের ব্যয়ভার বহনে মস্কো এখন অতিরিক্ত অর্থ সংস্থান করতে পারছে।
পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বর্তমানে এক ভয়াবহ ‘জিরো-সাম’ গেমের মুখোমুখি। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা করা, অন্যদিকে ইউক্রেনকে রাশিয়ার হাত থেকে বাঁচানো—এই দুই ফ্রন্টের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্রের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে আরটিএক্স (RTX) করপোরেশনের মতো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় রাশিয়ার দিকে ঘুরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে WSJ।
ডেস্ক রিপোর্ট