গত বৃহস্পতিবার ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এই তৃতীয় দফার সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে প্রত্যাশিত শান্তি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়নি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “আফগান প্রতিনিধি দল চেয়েছে আমরা তাদের মৌখিক প্রতিশ্রুতিতেই আস্থা রাখি, যা আন্তর্জাতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্য নয়।”
সংলাপের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও তুরস্কের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পাকিস্তান তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে, তবে আফগান পক্ষ শেষ মুহূর্তে চুক্তি স্বাক্ষর থেকে সরে গেলে মধ্যস্থতাকারীরাও হতাশ হয়েছেন।
২০২১ সালে কাবুলে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে উঠেছে। প্রধান কারণ হচ্ছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী কার্যক্রম। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগান তালেবান সরকার এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যদিও আফগান কর্তৃপক্ষ সবসময় এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ৯ অক্টোবর পাকিস্তান কাবুলে বিমান হামলায় টিটিপির শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে। এর দুই দিন পর আফগান সেনা পাকিস্তানের সীমান্তে হামলা চালায়, যা ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলা সংঘাতের মধ্যে অন্তত ২০০ আফগান ও ২৩ পাকিস্তানি সৈন্যের মৃত্যু ঘটায়। এরপর ১৫ অক্টোবর দুই দেশ ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে এবং ধারাবাহিক আলোচনায় বসে।
খাজা মুহাম্মদ আসিফ সতর্ক করেছেন, ভবিষ্যতে আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে হামলার পুনরাবৃত্তি হলে পাকিস্তান তার “সমুচিত জবাব” দেবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তানের একমাত্র চাওয়া হলো আফগান ভূখণ্ড যেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার না হয়।