ইসরাইলের গাজা সীমান্তের কাছে নতুন এক সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন ও ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকির লক্ষ্যে এই ঘাঁটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৫০ কোটি ডলার বলে জানিয়েছে ইসরাইলি গণমাধ্যম, যা উদ্ধৃত করেছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
নতুন ঘাঁটিতে স্থাপিত হবে একটি আন্তর্জাতিক টাস্কফোর্স, যারা গাজার অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে দায়িত্ব পালন করবে। এতে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরাইলি একাধিক কর্মকর্তা স্থানীয় পত্রিকা ইয়েদিওথ আহরনোথকে জানিয়েছেন, এই প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইসরাইলে সামরিক উপস্থিতির নতুন অধ্যায়’।
ইসরাইলের এক সামরিক কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, “ইসরাইলের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপন ইঙ্গিত দেয় ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থানের প্রতি।” প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রকল্প যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মার্কিন প্রতিশ্রুতিকে আরও সুসংহত করবে।
যদিও এই ঘাঁটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান এখনও প্রকাশ করা হয়নি, ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে—এ নিয়ে সম্ভাব্য স্থান নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে দক্ষিণ ইসরাইলের কিরিয়াত গাটে অবস্থিত সিভিল মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন সেন্টারে (সিএমসিসি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০০ সামরিক সদস্য যুদ্ধবিরতি তদারকির কাজ করছে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনার অধীনে গাজা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সেই পরিকল্পনায় বন্দি বিনিময়, গাজার পুনর্গঠন এবং হামাসকে বাদ দিয়ে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলি আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও এক লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Kaler Diganta
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর