এআই নিয়ে অনুশোচনায় প্রযুক্তির পথিকৃৎ, বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা
মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার হামলা ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করলেন জিওফ্রে হিন্টন
- আপলোড সময় : ০৬-১১-২০২৬ ০৮:১০:১৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৬-১১-২০২৬ ০৮:১০:১৫ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৪ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একসময় মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে পারে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এআই প্রযুক্তির অন্যতম পথিকৃৎ জিওফ্রে হিন্টন। প্রযুক্তিটির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পর এখন এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে অনুশোচনা ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিন্টন বলেন, হয়তো এ নতুন প্রযুক্তি ছাড়া পৃথিবী আরও ভালো থাকত। এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও নিজের উদ্বেগ তুলে ধরেন তিনি।
হিন্টনের আশঙ্কা, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এআই এমন সক্ষমতা অর্জন করতে পারে, যা ব্যবহার করে বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানো সম্ভব হবে। এর ফলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ব্যবস্থা কিংবা বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
‘গডফাদার অব এআই’ হিসেবে পরিচিত জিওফ্রে হিন্টন কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক ও মেশিন লার্নিংয়ের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ২০২৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান তিনি। এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ তৈরি করতে ২০২৩ সালে গুগল ছাড়েন এই বিজ্ঞানী।
তাঁর মতে, এআইয়ের ঝুঁকি শুধু সাইবার হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যা সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। পাশাপাশি কর্মসংস্থান কমে যাওয়া, ভুয়া তথ্যের বিস্তার এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এআইয়ের অপব্যবহারের আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে এআইয়ের ইতিবাচক সম্ভাবনাও অস্বীকার করছেন না হিন্টন। তাঁর মতে, চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তবে এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষা, সরকারি নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।