ফরিদপুর মেডিকেলে দুই যন্ত্রে সাড়ে ২৩ কোটি টাকা অপচয়: দুদক
নয় বছর আগে স্থাপন করা ক্যাথল্যাব এখনো অচল, বস্তাবন্দি অবস্থায় রয়েছে লিনিয়ার এক্সেলেটর; এমএসআর ক্রয়েও অনিয়মের তথ্য পেয়েছে দুদক।
- আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৬ ০৯:১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-১০-২০২৬ ০৯:১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৯ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি চিকিৎসা যন্ত্র কেনায় প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুই দিনের অভিযান শেষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুদকের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজ। সোমবার সকাল ১০টা থেকে এ অভিযান শুরু হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রায় নয় বছর আগে স্থাপন করা ক্যাথল্যাব এখনো চালু করা হয়নি। অন্যদিকে, লিনিয়ার এক্সেলেটর নামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্র বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা এসব যন্ত্রের কার্যকর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটায়ও অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার তথ্য পেয়েছে দুদক। বিশেষ করে এমএসআর খাতে কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।
দুদক কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজ জানান, হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের হয়রানি, দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে পরিচালিত এ অভিযানে হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রম ও কেনাকাটাসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। চিকিৎসা যন্ত্র কেনায় সরকারি অর্থের ব্যবহার, যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা এবং সেবাপ্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।
সরকারি অর্থ ব্যয়ে কেনা গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্র দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে একদিকে যেমন অর্থের অপচয় হয়, অন্যদিকে রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যাথল্যাব চালু না হওয়া এবং লিনিয়ার এক্সেলেটর বস্তাবন্দি থাকার ঘটনায় এসব যন্ত্রের যথাযথ ব্যবহার ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে অভিযানে উঠে আসা অভিযোগগুলোর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং পরবর্তী তদন্তে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।