নকল ওয়েবসাইটে চাকরির ফাঁদ, ২৪ লাখ টাকা আত্মসাত অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার
অনলাইন পার্টটাইম কাজের প্রলোভনে ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা, বিনিয়োগের নামে হাতিয়ে নেওয়া হয় ২৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা
- আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৩:৪৫:০৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৩:৪৫:০৫ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৬ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের নামে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে অনলাইন পার্টটাইম চাকরি ও বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রিয়ন্তী সরকার চিত্রা (২২) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত ৮ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ। গ্রেপ্তার প্রিয়ন্তীর বাড়ি রংপুরের সাতগাড়া গ্রামে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে টেলিগ্রামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে এক ব্যবসায়ীর মুঠোফোনে অনলাইন পার্টটাইম চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের আদলে তৈরি নকল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাঁকে কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কাজের অংশ হিসেবে একটি ট্রাভেল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের পক্ষে ইতিবাচক রেটিং ও মতামত দিতে বলা হয়। বিনিময়ে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা আয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
প্রস্তাবে রাজি হয়ে কাজ শুরু করার পর ওই ব্যবসায়ীকে কয়েক দফায় পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়। পরে তাঁকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অন্য সদস্যদের বিনিয়োগের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার স্লিপের ছবিও দেখানো হয়েছিল। এতে ব্যবসায়ী বিনিয়োগে আগ্রহী হন।
এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট ব্যবসায়ী তাঁর প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে চক্রের দেওয়া একটি হিসাবে প্রথমে এক লাখ টাকা পাঠান। পরে ওয়েবসাইটে নির্দিষ্টসংখ্যক ভিজিট সম্পন্ন করা, বিভিন্ন রাউন্ডে অংশ নেওয়া এবং অন্যান্য শর্ত পূরণের কথা বলে তাঁকে আরও অর্থ পাঠাতে বলা হয়। এভাবে একই দিনে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে মোট ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা নেওয়া হয়। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিনিয়োগের মুনাফা কিংবা মূলধন—কোনোটিই ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে চক্রটি আরও টাকা দাবি করলে ব্যবসায়ীর সন্দেহ হয়। তিনি বিনিয়োগের অর্থ ফেরত চাইলে তাঁকে নতুন করে টাকা পাঠানোর কথা বলা হয়। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি আদালতের মাধ্যমে পল্টন থানায় মামলা করেন। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪, ১০৯, ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে ‘লিজা’ নাম ব্যবহারকারী এক সন্দেহভাজনের নির্দেশনার সঙ্গে প্রতারণার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে তাঁকে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে প্রিয়ন্তী সরকারের নামে নিবন্ধিত মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব থেকে পারিশ্রমিক পাঠানো হয়েছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ পাঠানোর নির্দেশদাতা সম্পর্কে প্রিয়ন্তী সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানিয়েছে সিআইডি। প্রতারণায় তাঁর সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
সিআইডি আরও জানিয়েছে, একই মামলায় বিভিন্ন সময়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।