দিল্লিতে আটক কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন
সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়, আটক এক হাজারের বেশি; বন্ধ ৪৫ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ
- আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৩:৩৬:৪১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৩:৩৬:৪১ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫০ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়ের মধ্যে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধী নেতা পিনারাই বিজয়নকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে শনিবার পর্যন্ত দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় এক হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
বিজয়নের আটকের খবর নিশ্চিত করেছেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্কসবাদীর (সিপিআইএম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, বিজয়ন, সাবেক অর্থমন্ত্রী কে এন বালাগোপাল এবং তাঁকে আটক করে প্রথমে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁদের পুলিশ জিপে করে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ভিডিওবার্তায় ব্রিটাস বলেন, আটকের পর প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট তাঁদের ছত্রশাল স্টেডিয়ামে রাখা হয়েছিল। এরপর পুলিশ জিপে করে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন বলেও জানান তিনি। ব্রিটাসের অভিযোগ, দিল্লিতে নাগরিকদের মৌলিক স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভকে ঘিরে আগেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। গত ২০ জুলাইয়ের ওই কর্মসূচিতে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এবার আগাম নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। তবে সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো কীভাবে পূরণ হয়েছিল, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া হযরত নিজামুদ্দিন ও নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে যাওয়ার কথা ছিল—এমন ২৫০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন এবং ৩০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের তথ্যও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে যন্তর মন্তরের চারপাশে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সিজেপির তিন শীর্ষ সংগঠক অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা, দলের আইন শাখার প্রধান রত্না সিংহ এবং ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠি রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে আটকের সংখ্যা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থান এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।